আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে-বেনামে অর্থ পাচারের কাহিনী রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।
সম্প্রতি দুবাইতে আরও ৮৫০ বাংলাদেশির অপ্রদর্শিত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এক টাস্কফোর্স সদস্য জানিয়েছেন, সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থ পাচারকারীদের সম্পত্তির সঠিক তথ্য সংগ্রহ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে। গাজীপুরে এক সন্দেহভাজনের ৭০টি সম্পত্তি পাওয়া গেলেও অফিস থেকে প্রাথমিকভাবে শূন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল।
সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা।
সাবেক মন্ত্রী জাভেদের আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি মাত্র ১৮ কোটি টাকার সম্পদ দেখালেও আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে তিনি ২৫০ মিলিয়ন ডলার খরচে ৩৬০টি বাড়ি কিনেছেন। এছাড়া দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ৫০০টির বেশি বাড়ি রয়েছে, যেগুলোর মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।
সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, জাভেদের সম্পদের তালিকা যাচাই করতে শিগগিরই দুবাইতে তদন্ত টিম পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ৮৫০ বাংলাদেশির অপ্রদর্শিত সম্পদের বিষয়েও তদন্ত চলবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাভেদের রিটার্ন ও সম্পত্তির বিবরণ পর্যালোচনা প্রায় শেষ। দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে তার সম্পদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ পাচারের এই চিত্র ও দুর্নীতির বিবরণ দেশবাসীর কাছে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ