যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) সম্প্রতি ভারতকে ‘অসহযোগী’ দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে ভুটান, কিউবা, ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলা। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ দেশগুলো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইসিই জানিয়েছে, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সময়মতো ভ্রমণ নথি ইস্যু এবং নির্ধারিত ফ্লাইটে নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দেশগুলো সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি। তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে আইসিই।
আইসিই’র তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৯০ হাজারের বেশি ভারতীয়কে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই পাঞ্জাব, গুজরাট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা।
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তার কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বৃহত্তম প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারত-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বহু ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে তাদের অবস্থান বৈধ করার চেষ্টা করলেও এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। এক্ষেত্রে দু-তিন বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তবে বৈধতার এই দীর্ঘসূত্রতা অনেককে অবৈধ অভিবাসনের পথে ঠেলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যার দিক থেকে ভারত ১৩তম স্থানে রয়েছে। এশিয়ার মধ্যে চীন শীর্ষে, যেখানে ৩৭,৯০৮ জন অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। অন্যদিকে, হন্ডুরাস (২,৬১,০০০) এবং গুয়াতেমালা (২,৫৩,০০০) তালিকার শীর্ষে।
এই পদক্ষেপের ফলে ভারতীয় অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রভাবিত হবে এবং এটি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
0 মন্তব্যসমূহ