Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

সংবিধান সংস্কার: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদসহ ক্ষমতার ভারসাম্যের সুপারিশ

সংবিধান সংস্কার কমিশন জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশ করছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় সংসদের নিম্নকক্ষে ৪০০ আসন থাকবে, যার মধ্যে ১০০টি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে। উচ্চকক্ষে ১০৫টি আসনের মধ্যে ৫টি রাষ্ট্রপতির মনোনীত এবং বাকি ১০০টি আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে। দুই কক্ষ মিলিয়ে সংসদে মোট আসন হবে ৫০৫টি।

গণতন্ত্র সুরক্ষায় কমিশন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দিয়েছে। এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া রোধে সুপারিশ করা হয়েছে. এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন তা নির্ধারণ।দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা পদ পৃথক করা। নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

কমিশন প্রস্তাব করেছে, সংবিধানের মূলনীতিতে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’ যোগ করে আরও দুটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। যেমন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন। ইসিকে শক্তিশালী ও দায়বদ্ধ করার আইনি ব্যবস্থা। রাজনৈতিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন। না’ ভোট প্রবর্তন। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা।

দুদক সংস্কার কমিশন সংস্থাটিকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আধুনিক কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে মতপার্থক্যের বিষয়গুলো মোকাবিলায় সচেতনতা ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

সংবিধান সংস্কার কমিশন আগামীকাল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। অন্যান্য সংস্কার কমিশনও প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে, যা পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ