বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের উদ্যোগ সফল না হলেও এটি নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে সন্দেহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ঘোষণা দেন যে ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে। ঘোষণাপত্রে ‘বাহাত্তরের সংবিধান কবর দেওয়া’ এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা’ করার হুমকি দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বাহাত্তরের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত। এটি বাতিল করার প্রশ্ন কেন আসছে?” দলের নেতাদের ধারণা, এ উদ্যোগ নির্বাচনের সময়সীমা বিলম্বিত করার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “ঘোষণাপত্রের পেছনের উদ্দেশ্য না জেনে চিন্তার উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক। ঘোষণাপত্র স্থগিত করার সিদ্ধান্তও সন্দেহ তৈরি করেছে।”
বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করেন, ছাত্র আন্দোলনের এ উদ্যোগে দেশের দুটি দলের উসকানি থাকতে পারে। তবে এতে কোনো বিদেশি শক্তির ইন্ধন আছে বলে তারা মনে করেন না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে: ঘোষণাপত্রের উদ্যোগের পেছনে কারা? এটি নির্বাচনের সময় বিলম্বিত করে ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনার অংশ কি না? বিশাল সমাবেশ আয়োজনের জন্য বিপুল অর্থের উৎস কী?
দলটির একাংশ মনে করে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও তাদের সমর্থিত নাগরিক কমিটি নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, বিএনপির সন্দেহের মূল কারণ হলো বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকা। বরং নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম, সরকার, ও জামায়াতের মধ্যে একটি অলিখিত ঐক্যের আশঙ্কা করছে বিএনপি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ঘোষণাপত্রের উদ্যোগটি একটি বেসরকারি প্রয়াস। সরকার এর সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা রাখে না।
ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়টি আপাতত স্থগিত হলেও এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে সন্দেহ, ক্ষোভ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
0 মন্তব্যসমূহ