বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য নেওয়া প্রকল্পটি এখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পটি নিয়ে আর্থিক দুর্নীতি এবং দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিএসসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তগুলো ছিল অস্বাভাবিক এবং দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। চুক্তির আর্থিক লেনদেনের শর্ত এবং অন্যান্য অসংগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাশিয়ার চুক্তি অনুযায়ী ঋণের সুদের হার ছিল ৫ শতাংশের বেশি, যা সফট লোনের তুলনায় অনেক বেশি। সফট লোন সাধারণত এক থেকে দেড় শতাংশ সুদের মধ্যে থাকে। এ কারণে প্রকল্পটি নিয়ে বর্তমান সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং এটি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রকল্পের নাম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ইতোমধ্যেই চালু থাকায় দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার গ্লাভকসমসের সঙ্গে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এটি একটি আর্থ অবজারভেটরি ক্যাটাগরির স্যাটেলাইট, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং চুক্তির অসংগতি নিয়ে বিতর্কের কারণে প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ হয়েছিল ২০১৮ সালে, যার খরচ ছিল ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এটি মূলত টিভি চ্যানেলের সেবা এবং ডিটিএইচ সেবার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা না নেওয়া পর্যন্ত এটি অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে। সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন
0 মন্তব্যসমূহ