Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির নেতৃত্বে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের নতুন অধ্যায়

২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি মুক্তি পান। এরপর তিনি সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করেন, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে, বিশেষত ইদলিবে, শক্তিশালী হয়ে ওঠে।


প্রথম দিকে জোলানি আবু বকর আল-বাগদাদির সঙ্গে কাজ করেন, যিনি ইরাকের ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান ছিলেন। পরে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস) নাম ধারণ করে। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বাগদাদি আকস্মিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন এবং সিরিয়ায় নিজেদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে শুরু করেন। একসময় আইএসআইএল আল-নুসরা ফ্রন্টকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে ফেলে, তখনই আইএসআইএলের জন্ম হয়।



বর্তমানে, ইসলামপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আজ রোববার এইচটিএস একটি বিবৃতিতে ঘোষণা দিয়েছে যে, বাশার আল-আসাদ দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন এবং সিরিয়া এখন মুক্ত। এটি একটি অন্ধকার যুগের সমাপ্তি এবং নতুন যুগের সূচনা।


জোলানির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আল-জাজিরা তাঁর কার্যক্রমের একাল-সেকাল তুলে ধরেছে। আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির আসল নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা। তিনি ১৯৮২ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৯ সালে তাঁর পরিবার সিরিয়ায় ফিরে আসে। দামেস্কে থাকাকালে তাঁর কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। ২০০৩ সালে সিরিয়া থেকে ইরাকে গিয়ে তিনি আল-কায়েদায় যোগ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে অংশ নেন।




২০০৬ সালে জোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং পাঁচ বছর আটক থাকেন। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হলে, আসাদ সরকারের সহিংস দমন-পীড়নের ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জোলানি আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করেন, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ