বাংলাদেশের রাস্তায় জনপ্রিয় বাহন রিকশার গতি ও কার্যকারিতা বাড়াতে চীনের দুই তরুণী, নিকোল মাও এবং ইওয়েই ঝু, উদ্যোগ নিয়েছেন। হার্ভার্ড স্নাতক এই দুই উদ্যোক্তা করোনা মহামারির সময় বাংলাদেশে আটকা পড়ে নতুন স্টার্টআপ শুরু করেন।
তাদের স্টার্টআপ, টাইগার নিউ এনার্জি, রিকশাচালকদের জন্য একটি ব্যাটারি-সোয়াপিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই পদ্ধতিতে চালকেরা দ্রুত ব্যাটারি বদল করতে পারেন, যা সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে এবং চালকদের বেশি ট্রিপ করে আয় বাড়াতে সহায়তা করে।
২০২৪ সালের মধ্যে তারা বাংলাদেশে এক হাজার ব্যাটারি-সোয়াপিং স্টেশন স্থাপন করার লক্ষ্য নিয়েছেন। প্রথম ১০০টি স্টেশন ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয়েছে।
সমস্যা ও সমাধান:
বাংলাদেশে প্রচলিত বৈদ্যুতিক রিকশার সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি চার্জ করতে সময় বেশি লাগে এবং পরিবেশগত সমস্যার কারণ হয়। নিকোল মাও ও ইওয়েই ঝু এই সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরি করেন এবং সেগুলো স্বয়ংক্রিয় স্টেশনে বদলানোর ব্যবস্থা চালু করেন।
চালকেরা চার্জ কমে গেলে স্টেশনে গিয়ে সহজে নতুন ব্যাটারি পেয়ে যান। ভয়েস নির্দেশনা এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।
বিনিয়োগ ও প্রসার:
ফিলিপাইনের এডিবি ভেঞ্চারস এবং সিঙ্গাপুরের ওয়েভমেকার পার্টনার্সের প্রাথমিক বিনিয়োগে লিথিয়াম ব্যাটারির কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। স্টার্টআপটি রিকশাচালকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের পরিবহন খাতের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখছে।
প্রতিষ্ঠাতাদের মন্তব্য:
নিকোল মাও বলেন, “দেশের অর্থনীতি বাড়ার সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার চাহিদাও বাড়ছে। এর চাহিদা অসীম।”
ইওয়েই ঝু যোগ করেন, “এটি ছিল পাগলাটে এক বুদ্ধি, কিন্তু তা দারুণভাবে কাজ করেছে।”
এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাংলাদেশের রিকশাচালকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
0 মন্তব্যসমূহ