Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

বড়পুকুরিয়ার কয়লা নিয়ে দুষ্টচক্রের সক্রিয়তা: বিদ্যুৎ উৎপাদনে সঙ্কটের শঙ্কা

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লা খোলাবাজারে বিক্রির চেষ্টায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র। ইয়ার্ড ঘাটতি ও পর্যাপ্ত উৎপাদনের অজুহাত দেখিয়ে এ চক্রটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। সূত্র জানিয়েছে, চক্রটিতে কয়লাখনি ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের অসাধু কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা জড়িত।



কয়লা খোলাবাজারে বিক্রি হলে সরকারের সামান্য লাভ হলেও চক্রটি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেবে। এর ফলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র বড় বিপদে পড়বে। ২০১৮ সালে ঠিক এমন পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কয়েক মাস বন্ধ ছিল।

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের এক সূত্র জানিয়েছে, কয়লার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল ইউনিটগুলো সচল করা জরুরি। অথচ, এদিকে নজর না দিয়ে কয়লা বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা সোলায়মান সামি বলেন, "বড়পুকুরিয়ার কয়লার মালিক পিডিবি। তবে সুযোগসন্ধানী মহল খোলাবাজারে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশের প্লান্টে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। পুরো উৎপাদনে গেলে উত্তোলিত কয়লাই যথেষ্ট হতো, কয়লার স্তূপ জমার প্রশ্নই উঠত না।"

২০১৮ সালে খোলাবাজারে কয়লা বিক্রির অভিযোগে মামলা হয় এবং ১৯ জনকে আসামি করা হয়। খনি থেকে এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা বিক্রি করে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা কেবল সন্নিকটস্থ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার হবে।

বর্তমানে কয়লা খনির ইয়ার্ডগুলোতে পাঁচ লাখ টন কয়লা ধারণক্ষমতা রয়েছে। উত্তোলিত কয়লায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চলতে পারে দুই মাস। নতুন ফেইজ নির্মাণেও প্রায় একই সময় লাগে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট স্থাপন করলে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানো ও কয়লার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, "বড়পুকুরিয়ার কয়লা শুধুমাত্র পাওয়ার প্লান্টে ব্যবহারের জন্য। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।" তবে কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ