২০১৬ সালের ৯ আগস্ট জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলির ছেলে ব্যারিস্টার আরমানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে, এবং এরপর থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তবে গত বছর, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দীর্ঘ আট বছর পর বাড়ি ফেরেন আরমান। মুক্তির পর জানা যায়, তাকে এই সময়কালে শেখ হাসিনার গোপন কারাগার ‘আয়না ঘর’-এ রাখা হয়েছিল। মুক্তির সময় আরমানের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাকে চিনতে পারছিলেন না কেউ।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি পরবর্তীতে তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আরমানের স্ত্রীকে হেনস্তা করেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, চ্যানেল-৪ এর প্রতিবেদন প্রচারের কয়েক ঘণ্টা আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরমানের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাকে চুপ থাকতে বলেন। তার স্ত্রীকে এমনভাবে হেনস্তা করা হয় যেন তাকে কোনো সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরমানের মুক্তির পর, তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, "চ্যানেল-৪ প্রতিবেদন প্রচার হওয়ার পর, টিউলিপকে প্রশ্ন করার বিষয়টি শেখ পরিবারকে আঘাত করেছিল, এবং এ কারণেই প্রশাসন থেকে আমার পরিবারকে এইভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল।"
২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর চ্যানেল-৪ এর সাংবাদিক টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে গিয়ে তাকে বলেন, “আপনার একটি ফোন কল অনেক পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।” এ সময় টিউলিপ সিদ্দিক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিককে বলেন, “আরমান কী ব্রিটিশ নাগরিক?” এবং তার পরবর্তী কথায় তিনি বলেন, “আমি ব্রিটিশ এমপি, আমাকে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ বলার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।”
আরমানের ব্রিটিশ আইনজীবী মাইকেল পলক জানিয়েছেন, “চ্যানেল-৪ এর প্রতিবেদনের কয়েক ঘণ্টা আগে আরমানের বাড়িতে র্যাবের সদস্যরা গিয়ে তার স্ত্রীর কাছে হুমকি দেয়, যেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করা হয়। এটি এক ধরনের হুমকি যা হত্যাকাণ্ড এবং গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।"
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার দল লেবার পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, কেউই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, টিউলিপের এক সহযোগী জানিয়েছেন যে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ব্যারিস্টার আরমানের ব্যাপারে ফরেন অফিসে একটি পত্র পাঠানো হয়েছিল।
0 মন্তব্যসমূহ