জাতীয় নির্বাচনকেই প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে—এমন দাবি জানিয়েছে বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল। দলগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই মুহূর্তে জনগণের দাবি নয় এবং এর কোনো নজিরও নেই।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ হচ্ছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, ১৫ বছরের সংগ্রামের পর ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এখন প্রধান এজেন্ডা জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।
অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, নিরপেক্ষ পরিবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তা মন্দ হবে না।
জামায়াতে ইসলামী এই ইস্যুতে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। দলটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই মুহূর্তে কোনো এজেন্ডা নয়। তারা মনে করেন, স্থানীয় নির্বাচনের উদ্যোগ জনমনে সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াবে এবং সরকারবিরোধী দলের সমালোচনা বাড়তে পারে।
বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও ইসলামী আন্দোলন এর পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত এখনও অস্পষ্ট। তবে বিরোধী দলগুলোর প্রধান দাবি, দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
0 মন্তব্যসমূহ