বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে শান্তিরক্ষী পাঠানোর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মন্তব্য রাজনীতির মাঠে তার জন্য ‘সহায়ক হবে না’ বলে মত প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "মমতা ব্যানার্জির মন্তব্যকে আমরা শুধু তার নিজস্ব ধরনের মন্তব্য হিসেবেই দেখছি। কারণ, এই মন্তব্যের পেছনে তার উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পারছি না। আমি কলকাতায় দীর্ঘদিন ছিলাম এবং তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "আমি মনে করি, এটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার জন্য একটি সুষ্ঠু পদক্ষেপ নয়। রাজনৈতিক বিতর্ক সবসময় রাজনৈতিকভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং এটি তার রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সহায়ক হবে না।"
সোমবার বিকালে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরার পর, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, "৫ তারিখের পর পুরনো এবং নতুন সম্পর্ক এক হতে পারে না। আমরা সম্পর্কের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো আমরা স্বীকার করি। সমস্যা স্বীকার করা মানে তা সমাধানের দিকে এগোনো। আমরা চাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক, যেখানে উভয়পক্ষের স্বার্থ বজায় থাকবে।"
তিনি অব্যাহত রাখেন, "৫ তারিখের আগে ও পরের সরকারের মধ্যে কিছু তফাৎ রয়েছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগতে পারে। তবে বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমাদের সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো যোগ করেন, "বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সমস্যা নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা দেশের ভেতর ও বাইরের উভয় পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমরা এই প্রচেষ্টাকে সফল হতে দেব না বলে কূটনীতিকদের জানিয়েেছি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, "প্রধানত ভারতের মিডিয়া এই ধরনের নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এছাড়া, অন্যান্য কিছু দেশের মিডিয়া ভারতের মিডিয়ার বক্তব্যের ভিত্তিতে একই ধরনের খবর প্রকাশ করছে।"
তিনি বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার জামিন কেন বাতিল করা হয়েছে, এই বিষয়গুলি কূটনীতিকদের বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, "আমাদের যে অবস্থান, তা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। তারা অবশ্যই এই তথ্য তাদের দেশে রিপোর্ট করবেন, যা একটি নিয়ম।"
কূটনীতিকরা কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল, সেগুলোর উত্তর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা শেষে তারা “কনভিন্সড” মনে করছেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং কূটনীতিকদের এ বার্তা দিয়েছেন।
0 মন্তব্যসমূহ