Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

আগামী নির্বাচনে আ.লীগকে চায় জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত হবে না। তিনি দাবি করেছেন, যারা দোষ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, এবং আন্দাজে মামলা দিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। তিনি প্রশ্ন করেন, “একটি সংগঠনের সবাই কি অপরাধী? যদি তাই ভাবেন, তাহলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনাদের তফাৎ কি?”




জিএম কাদের আরও বলেন, শেখ হাসিনা মনে করতেন বিএনপি ও জামায়াত করলেই অপরাধী, কিন্তু এখন একই ধরনের আচরণ আপ্নারা ও করছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং বলেন, “যাদের নিবন্ধন দিয়েছেন, তাদের কেন নির্বাচনে আসতে দেবেন না?”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কোনো আগ্রাসন এলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা প্রতিহত করবো। এটার জন্য গলাবাজির দরকার নাই। কেউ কেউ বলেন, আগ্রাসন এলে এক ইঞ্চিও ছাড় দেব না। কে আপনাকে ছাড় দিতে বলে? আমাদের দেশে আর্মি আছে, বিজিবি আছে না?”

শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২৩০টি আসন এবং তাদের ভোটের হার ছিল ৪৮.০৪। বিএনপি পেয়েছিল ৩০টি আসন এবং ভোটের হার ছিল ৩২.০৫, যেখানে জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ২৭টি আসন এবং ভোটের হার ছিল ০৭.০৭।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে জাতীয় ঐক্যের ডাকের বাইরে রাখা হয়েছে, যা জাতিগতভাবে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হানাদাররা বলেছিল আমরা মানুষ চাই না, মাটি চাই। ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে বাদ দিয়ে সুন্দর দেশ গড়া বাস্তবসম্মত নয়।”

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও সভা করা একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সেলফসেন্সরশিপ চলছে। সাংবাদিকরা ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”

জিএম কাদের আরও বলেন, “আমাদের পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না, যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। নির্বিচারে আমাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, কিন্তু জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আমরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছি।”

তিনি ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত একটি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, রাষ্ট্রসংস্কার ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলে গেলে এই প্রজন্ম আমাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। এটি অত্যন্ত সত্য কথা।”


জিএম কাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, “আন্দোলনটি ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য, কারণ তিনি বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনার লোকজন লুটপাট করে দেশটা শেষ করে দিয়েছিল। একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির মুক্তি মিলবে, যেখানে সব ধরনের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি সরকার গঠিত হবে।”

তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল উল্লেখ করে বলেন, “জনগণের রায়ে শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে দানবীয় সরকার গঠন করেছিলেন। এটা থেকে পরিত্রাণ পেতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার প্রয়োজন।”

জিএম কাদের বলেন, “বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে জাতীয় ঐক্য দরকার এবং সংস্কারে সবার মতামত প্রয়োজন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি সবার মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার করছে? এখন দেখা যাচ্ছে, ঐক্যের চেয়ে প্রতিশোধের বিষয়টি সামনে আসছে।”

তিনি আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে দেন, “আইনে বলা আছে ১০টি অপরাধী ছাড়া পেলেও যেন একজন নিরপরাধ শাস্তি না পায়। কিন্তু বাস্তবে হত্যা মামলায় লাখ লাখ মানুষকে আসামি করা হচ্ছে।”

জিএম কাদেরের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর সাংবিধানিকভাবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “তিন জোটের রূপ রেখায় ভালো নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেই অঙ্গীকারে শ্রদ্ধাশীল হয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, কারণ তিনি জানতেন জনগণ এমন প্রত্যাশা করছে।”

জিএম কাদের দাবি করেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সবসময় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেছেন। বিএনপির কিছু নেতাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তখন তাকে স্বাগত জানিয়েছিল। পরে অনেকেই বলেছেন, তিনি অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তবে কখনো কখনো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করা নিন্দনীয় নয়, এটা এখন সবাই বুঝতে পেরেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বললেও, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যনীতির উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে কিছু বাধার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন অনেকেই বলেন, তার উদ্যোগগুলো সঠিক ছিল।”

জিএম কাদের উল্লেখ করেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দিয়েছিলেন, যখন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে সম্মত হয়েছিল। তিনি বিচার ব্যবস্থা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করেছিলেন। আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে রাজি হয়েছিলেন, কিন্তু বিরোধী দলগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।”

তিনি বলেন, “হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জানতেন জনগণের সমর্থন জাতীয় পার্টির ওপর আছে। পরপর দুইটি নির্বাচনে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কারাগারে থেকেও তিনি ৫টি করে আসনে জয়ী হয়েছেন। আমৃত্যু কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি তিনি।”

জিএম কাদেরের এ বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, “কয়েকদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। কিন্তু এতে জাতীয় ঐক্যের নামে জাতীয় অনৈক্যের সূচনা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “৪৮টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে মাত্র ১৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।”

জিএম কাদের ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এই নির্বাচন দুটি দেশে এবং বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ২০০১ সালে বিএনপি ১৯৩টি আসন জিতে সরকার গঠন করেছিল এবং তারা ৪০.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৩১ সিট কম পেয়ে ৪০.১৩ শতাংশ ভোট নিয়ে খুব খারাপ ফলাফল করেছিল। ভোটের ব্যবধান ছিল ১ শতাংশেরও কম।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “২০০১ সালে জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয় এবং তাদের ভোটের হার ছিল ৭.২৫ শতাংশ। জামায়াত ১৭টি আসন পেয়েছিল, তাদের ভোটের হার ছিল ৪.২৮ শতাংশ।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ