Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

১৫৫ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ, চাকরি হারালেন লাখো শ্রমিক, গভীর সংকটে গার্মেন্টস খাত,

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস) ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রয়াদেশের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি এই শিল্পকে স্থবির করে তুলেছে। এর ফলে এ বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে ১৫৫টি কারখানা। এসব কারখানা বন্ধের ফলে প্রায় ১ লাখ পোশাকশ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্ডার বাতিল করেছে। এর ফলে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

পোশাক কারখানাগুলো বর্তমানে কাঁচামাল, জ্বালানি এবং পরিবহন খরচের অভূতপূর্ব বৃদ্ধির মুখোমুখি হয়েছে। ডলার সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক কারখানা আর্থিকভাবে টিকতে পারেনি।

চাকরি হারানো শ্রমিকদের বেশিরভাগই নিম্নবিত্ত পরিবারের, যারা দিন আনা দিন খাওয়া পরিস্থিতিতে রয়েছেন। বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য কোনো বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, "গার্মেন্টস খাত একটি সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। কারখানা বন্ধের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা শ্রমিক এবং অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। আমরা সরকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি সংকট উত্তরণের জন্য।"

অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, "গার্মেন্টস খাত দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস। যদি দ্রুত এই খাতের সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।"

গার্মেন্টস খাতের সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। রপ্তানি বাজার পুনরুদ্ধারে নতুন বাজার খুঁজে বের করা, শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি এবং আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।

যদি সংকট দ্রুত সমাধান করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ