Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে: ব্যয়বহুল প্রকল্পে দুর্ঘটনার মরণফাঁদ

দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনের পর থেকেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। এটি রাজধানীতে দ্রুত যাতায়াতের জন্য নির্মিত হলেও পরিণত হয়েছে মৃত্যুর ফাঁদে।

২০২০ সালের মার্চে উদ্বোধনের পর থেকে এ বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ বছরে এক্সপ্রেসওয়েতে ২০০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১,০০০-এরও বেশি। ২০২১: ৭৯টি দুর্ঘটনায় ৬৫ জন নিহত, ৬৭ জন গুরুতর আহত। ২০২২: ১৯৬টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত, ২৬৫ জন গুরুতর আহত। ২০২৩: ৬৪টির বেশি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত, ৮৫ জন আহত।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়া। ফগ লাইট না জ্বালানো। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো। চালকদের গাফিলতি ও ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো। সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা ও একাধিক গাড়ির পাইলআপ দুর্ঘটনা। এক্সপ্রেসওয়ের সাইন-সংকেত ব্যবস্থার আধুনিকতার অভাব,পুলিশের নজরদারির ঘাটতি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা, কুচিয়ামোড়া, হাসাড়া, ষোলঘর ও পদ্মা থানার কাছাকাছি এলাকায় বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের টহলদারি অপর্যাপ্ত হওয়ায় চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানিয়েছেন ট্রাফিক আইন না মানা, ফগ লাইট ব্যবহার, চালকদের প্রশিক্ষণ ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।  টহলদারি চালু থাকলেও চালকরা পুলিশের অনুপস্থিতিতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে, তবে চালকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

করণীয়, সড়কে আধুনিক সাইন-সংকেত ও সিসিটিভি স্থাপন। কুয়াশা বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, চালকদের জন্য বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় টহল জোরদার। ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোরতা বৃদ্ধি। এই উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ