সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের পেছনের কারণগুলো নিয়ে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, এইচটিএসের (হায়াত তহরির আল-শাম) হামলার বিরুদ্ধে আসাদ বাহিনী যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। উল্লেখ্য, সিরিয়ার পুলিশ বাহিনী বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত নয়, যার ফলে তারা বিদ্রোহীদের সামনে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।
হামা শহরের কাছে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের উপস্থিতির পর সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীকে তাদের প্রতিরক্ষা লাইন অটুট রাখতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু পরে বলা হয়, "বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ রক্ষার জন্য" তারা সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু এই দাবিটি অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না, বিশেষ করে সেই সরকারের পক্ষ থেকে, যা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আসাদ বাহিনীর ভেতর ইতোমধ্যে মনোবলের অভাব, দলত্যাগ এবং দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি 'ফাঁপা' হয়ে গেছে। বিশেষ করে যখন বিদ্রোহীরা হোমসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, তখন চ্যাথাম হাউসের পরিচালক সানাম ভাকিল মন্তব্য করেন, বিদ্রোহীদের এই অগ্রগতি আসাদ সরকারের দুর্বলতারই চেহারা। এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি বিশাল সমর্থন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, আসাদ সরকারের ভিতরে যে দুর্বলতার আভাস রয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
একসময় আল-কায়দার শাখা হিসেবে পরিচিত এইচটিএস বর্তমানে তাদের সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে এবং সম্ভবত নিজেদের মতাদর্শেও কিছুটা পরিবর্তন ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ের। তিনি উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদের সাফল্যের একটি বড় কারণ হলো তারা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে যত্নশীল হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধের সময় যখন বিদ্রোহীরা শিয়া মুসলিমদের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে, তখন তারা আক্রমণের পরিবর্তে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে।
হেলিয়ের আরও যোগ করেন যে, যদি বিদ্রোহীরা আলাওতি সম্প্রদায়ের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত রাখে, তবে তারা কাজটি সফল করার সম্ভাবনা অধিক হবে। উল্লেখ্য, শিয়া মুসলিমদের মধ্যে আলাওতি একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বাশার আল-আসাদও এই সম্প্রদায়ের সদস্য, তাঁর অনেক সমর্থকও আলাওতি।
এছাড়া, বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে। যখন এইচটিএস অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন অনুভব করেছে, তখন তুরস্ক-সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তাদের সহায়তায় একদল যোদ্ধা পাঠিয়েছে। এই ঘটনা বিদ্রোহীদের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
0 মন্তব্যসমূহ