বাংলাদেশের নারীদের ক্রিকেটে সাদা পোশাকে খেলা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে, তবে এই সংস্করণের খেলা খুব বেশি দেখা যায় না। প্রতি বছর হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচ হয়, কিন্তু বর্তমানে অনুষ্ঠিত ঘরোয়া টুর্নামেন্টটি টেস্ট ক্রিকেটের দরজা খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শুরু থেকেই প্রত্যাশা ছিল, ক্রিকেটাররা এই সুযোগটি কাজে লাগাবেন। এবং নারীরা সেই প্রত্যাশার থেকেও বেশি প্রতিদান দিচ্ছেন—টুর্নামেন্টে একের পর এক সেঞ্চুরির দেখা মিলছে।
এই সেঞ্চুরির মাইলফলকের প্রথম সোপানটি তৈরি করেছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। দুই ম্যাচ শেষে ছয়টি সেঞ্চুরি এসেছে। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন জ্যোতি এবং ফারজানা হক পিংকি। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও চারটি সেঞ্চুরি দেখা গেছে, যেখানে জ্যোতি আবারও সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। ফলে, ছয় সেঞ্চুরির মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি এসেছে তার ব্যাট থেকেই। এই ম্যাচে আরও সেঞ্চুরি করেছেন—দিলারা আক্তার দোলা, মুর্শিদা খাতুন এবং সোবহানা মোস্তারি।
টুর্নামেন্টটি আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে চলতে থাকবে, আর সেসময় আরও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে অনেকেই ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। তিন দিনের ম্যাচ হলেও, একে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই; ডাবল সেঞ্চুরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলাররা এই টুর্নামেন্টে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। নাহিদা আক্তার প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে প্রশংসিত হন। অন্যদিকে, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা ৬ উইকেট নিয়েছিলেন, এবং রাবেয়া খান ৫ উইকেট লাভ করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটাররা বোলারদের ছাপিয়ে রাজত্ব করেছেন।
পূর্বাঞ্চল-মধ্যাঞ্চল ম্যাচে পাঁচ শতাধিক রান হয়েছে। যেখানে মুর্শিদা খাতুন ১৭০ রান এবং জ্যোতি ১৭১ রান করেছেন। যদিও ডাবল সেঞ্চুরির আশা পূর্ণ হয়নি, তবুও তাদের এই অর্জন টুর্নামেন্টের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
টুর্নামেন্টটি চলছে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে, যেখানে প্রত্যেকে ৬টি ম্যাচ খেলবে। দুটি ম্যাচ শেষে দক্ষিণাঞ্চল ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। প্রথম ম্যাচে পূর্বাঞ্চলকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ড্র করে তারা শীর্ষস্থান অর্জন করে। মধ্যাঞ্চল দুটি ড্র নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, আর উত্তরাঞ্চল তৃতীয় স্থানে। পূর্বাঞ্চল একমাত্র ম্যাচে হারার পর তলানিতে রয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ