Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

"খাদের কিনারে রাজনীতি!"" কোথায় যাচ্ছে দেশ!" গোলাম মাওলা রনি।


১. রাজনীতির সংকট এবং প্রধান দলগুলোর অবস্থা


আওয়ামী লীগ: আমলা-নির্ভরতা

আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দলীয় রাজনৈতিক কর্মীদের বাদ দিয়ে আমলাতন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু এখন শেখ হাসিনা মনে করছেন আমলারা তাঁর সাথে বেইমানি করেছে। ফলে এই অতিরিক্ত আমলা-নির্ভরতা দলের রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে ফেলেছে। 

রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট:  দলের রাজনৈতিক নেতারা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে তৎপরতা নেই এবং তাঁরা অসংগঠিত হয়ে পড়েছেন।আভ্যন্তরীণ অসন্তোষ: তৃণমূলের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। এ অবস্থায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নতুন নেতৃত্ব খুঁজে পাচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

বিএনপির নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব:  বিএনপির প্রধান দুই স্তম্ভ—বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান—দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বেগম জিয়ার অনুগত প্রবীণ নেতারা আবার সক্রিয় হলেও, তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য নেই। দলীয় কর্মীদের হতাশা: পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক কৌশলের অভাব: বিএনপি গত কয়েক দশকে কার্যকর কোনো রাজনৈতিক কৌশল দাঁড় করাতে পারেনি। একইসঙ্গে তৃণমূলের কর্মীদের নেতৃত্বে আনার কোনো চেষ্টা দৃশ্যমান নয়।

জামায়াতঃ  অভিজাত ও পরিবারতন্ত্র:

জামায়াত অতীতে পরিবারভিত্তিক নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়িক এলিটদের প্রভাবের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। বর্তমান আমির নতুন কাঠামো গড়ে তুললেও পুরনো অভিজাত পরিবারতন্ত্র আবার ফিরে আসছে।

গোপন দ্বন্দ্ব: জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে না এলেও, এই দ্বন্দ্ব দলের একতা এবং কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রভাবশালী নেতার শূন্যতা: জামায়াতের পুরনো প্রভাবশালী নেতাদের অনুপস্থিতি এবং নতুন নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা দলকে দুর্বল করে দিয়েছে।

২. অর্থনৈতিক সংকট ও তার প্রভাব

মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসঃ অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর ফলে দেশের অর্থনীতি চরম মূল্যস্ফীতির শিকার হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

শিল্প-উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান সংকটঃ শিল্প-কারখানা বন্ধ: করোনাকাল থেকে শুরু হওয়া শিল্প উৎপাদনের ধস এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বেকারত্ব বৃদ্ধি: হাজার হাজার কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের বেকারত্ব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থাঃ অধিকাংশ ব্যাংক এখন আইসিইউতে। নতুন ঋণ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে এবং হাজার হাজার ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে পড়ছেন।

বিনিয়োগের অভাব দেশে নতুন বিনিয়োগ নেই, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ একেবারেই কমে গেছে। আমদানি-রপ্তানি খাতেও মারাত্মক সংকট চলছে।

৩. ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সীমান্ত উত্তেজনা

ভারত-বাংলাদেশ শীতল সম্পর্ক: দিল্লি-ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক শীতলতা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মিডিয়া ও প্রশাসনের মধ্যেও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।

সীমান্ত সমস্যার জটিলতা: মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির বিজয় নতুন সংকট তৈরি করেছে। সীমান্ত উত্তেজনা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪. সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ঃ

অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব মানুষের মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। অবিশ্বাস ও সন্দেহের সংস্কৃতি: পরিবার, সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহ বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর বিভাজন: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থের লড়াই রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করছে।

৫. আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভূ-রাজনীতিঃ চীন-পাকিস্তান:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব বাড়ছে, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব: আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং ভারত-বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক দেশের কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

গোলাম মাওলা রনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজের সামগ্রিক অবস্থা এখন ভয়ংকর সংকটের মধ্যে রয়েছে। দলগুলোর নেতৃত্বহীনতা, আমলা-নির্ভরতা, এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের কারণে দেশ "খাদের কিনারে" এসে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নীতির প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে কূটনৈতিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ