বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন, যিনি গ্যাস সংযোগের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্যে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী ব্যবসায়ীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। উৎপাদনশীল খাতের অবস্থা আরও করুণ। এই দেশে শিল্পায়ন মূলত সস্তা শ্রম এবং গ্যাসের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পায়নের অন্যান্য মৌলিক উপাদানগুলো—যেমন জমি, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংক ঋণ এবং ঘুষ—এসব এখন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকট এবং উচ্চমূল্যের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধা সৃষ্টি করছে।
চৌধুরী আরও বলেন, “অর্থনীতি ঠিক রাখতে হলে শিল্পে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ বজায় রাখার বিকল্প নেই। অন্য খাতে সংস্কার করতে সময় লাগলেও শিল্প খাতের ক্ষেত্রে বিলম্ব কর্মকাণ্ডকে আত্মঘাতী করে তুলবে।”
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ইজাজ হোসেন গ্যাসের অভাবে বিভিন্ন শিল্প খাতে উৎপাদনের ব্যাঘাতের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, তৈরি পোশাক খাতে ৩০-৩৫ শতাংশ, স্টিল শিল্পে ২৫-৩০ শতাংশ এবং সিরামিক শিল্পে ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতও পল্লী বিদ্যুতের অদক্ষতার কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে। শিল্প খাতে বর্তমানে চাহিদার অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। গত দুই বছরে জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি না পাওয়ার বিষয়টি শিল্প খাত সংকুচিত হওয়ার পরে ফলশ্রুতির প্রতীক।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের শিল্পঘন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ