বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশ সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ‘বহিষ্কার’ নেতা, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জাটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আটক করার পর বিক্ষোভের মধ্যে চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতপন্থি এক আইনজীবী নিহত হন। এ ঘটনার পর ইসকনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশে ইসকন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানায়, দাসকে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তবে বৈশ্বিক ইসকন তার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করে আন্দোলনকে রাজনৈতিক মোড় দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিল।’ আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির পর বুধবার উচ্চ আদালতে ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে ইস্যুটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। চিন্ময়ের সঙ্গে ইসকনের কী সম্পর্ক?
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আসল নাম ছিল চন্দন কুমার ধর। বাংলাদেশে ইসকনের সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ভক্তরা তাকে ডাকেন ‘চিন্ময় প্রভু’ নামে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সনাতন ধর্মের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে গঠিত জোটের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাকে। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। বিশেষত গত অক্টোবরে চট্টগ্রামে একটি মিছিলের সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর আগে গত ৩ জুলাই ইসকন পরিপন্থি বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে ইসকন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ তাকে সতর্ক করে চিঠি দেয়। সেখানে তার বিরুদ্ধ পাঁচটি অভিযোগও আনা হয়। পরে গত ৯ নভেম্বর ইসকন বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস জানান সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ইসকনের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও ইসকনের সম্পর্ক
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি চন্দন কুমার ধর নামে পরিচিত, বাংলাদেশে ইসকনের (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস) অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ এবং সম্প্রতি গঠিত বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- প্রথম পরিচয়: চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ইসকনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং ভক্তরা তাকে 'চিন্ময় প্রভু' নামে ডাকতেন।
- সাংগঠনিক কার্যক্রম: তিনি ইসকনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু তার কিছু কর্মকাণ্ড ইসকনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছিল।
বিতর্ক ও বহিষ্কার
- অভিযোগ: গত ৩ জুলাই, ইসকনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ চিন্ময়কে সতর্ক করে একটি চিঠি দেন, যেখানে পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
- জাতীয় পতাকার অবমাননা: বিশেষ করে গত অক্টোবরে চট্টগ্রামে একটি মিছিলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে।
- বহিষ্কার: ৯ নভেম্বর, ইসকন বাংলাদেশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি
- চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও subsequent ঘটনাবলী বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
- ইসকনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে, তবে স্থানীয় আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
উপসংহার
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ইসকনের সঙ্গে সম্পর্ক একটি জটিল এবং বিতর্কিত অধ্যায়। তার কর্মকাণ্ডের কারণে ইসকনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে, যার ফলস্বরূপ তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

0 মন্তব্যসমূহ