দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সাহেব আলীর বিরুদ্ধে ভূমিহীন সমিতির সদস্য থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। একসময় সংসার চালানোই ছিল যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে বর্তমানে তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এলাকার মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

২০১২ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন সাহেব আলী। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সাধারণ কর্মী থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে উঠেন। পরে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন এবং চেয়ারম্যান পদে আসীন হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে সাহেব আলী ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। জমি দখল, অবৈধ ব্যবসায় মধ্যস্থতা, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং ডিজিটাল সেন্টারে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে কাজ করাসহ একাধিক অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নে কারচুপি এবং স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নির্বাচনের পরপরই তিনি সাধারণ কুঁড়ে ঘর থেকে কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়িতে ওঠেন। নির্বাচনীয় হলফনামা থেকে তার সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ উত্থাপিত হয়েছে। ভোটের পর দ্বিতীয় বিয়েও করেন তিনি, যা আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ভুল ঠিকানা ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি টাকার অপব্যবহার, এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে স্থানীয় জনগণ তার বিচারের দাবি তুলেছেন। গেল ৫ আগস্ট থেকে সাহেব আলী পলাতক থাকায় এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়রা সাহেব আলীর সব অনিয়ম ও দুর্নীতির দ্রুত তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।