কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভাবনীয় অগ্রগতি মানুষের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টন।
জিওফ্রে হিন্টন জানিয়েছেন, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। তার মতে, এর সম্ভাবনা ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
হিন্টনের বক্তব্যে, মানুষকে তিনি এআইয়ের তুলনায় তিন বছরের শিশুর মতো দেখেছেন। কারণ, মানুষের বুদ্ধিমত্তা এআইয়ের তুলনায় দুর্বল হতে পারে।
কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং মেশিন লার্নিংয়ের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য হিন্টন ২০২৪ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
হিন্টন উল্লেখ করেছেন, এর আগে মানুষ কখনো নিজেদের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান সত্ত্বাকে নিয়ন্ত্রণ করেনি। তিনি বলেন, ‘‘আমি ভাবিনি, আমরা এত দ্রুত এআই বিকাশের পর্যায়ে পৌঁছাব। হিন্টন সতর্ক করেছেন যে, এআই প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোকে এটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
2023 সালে হিন্টন গুগল থেকে পদত্যাগ করেন। তখন তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, এআই অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলে তা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের চেয়ে বেশি স্মার্ট হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় প্রযুক্তিটির উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিকাশকে সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা প্রয়োজন, নতুবা এটি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
0 মন্তব্যসমূহ